যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সময়ের বিবর্তনে ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াই-ফাই রাউটারে অ্যান্টেনার সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে যেখানে একটি অ্যান্টেনা দিয়ে কাজ চলত, এখন সেখানে আটটি পর্যন্ত অ্যান্টেনা সংবলিত রাউটার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও গতি বজায় রাখা।
অ্যান্টেনার কার্যকারিতা ও মাইমো প্রযুক্তি
অ্যান্টেনার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে মাইমো (MIMO – Multiple-Input, Multiple-Output) প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, অ্যান্টেনা হলো ডেটা চলাচলের রাস্তার মতো। পুরনো দিনে ইন্টারনেটের কাজ ছিল সীমিত, তাই একটি রাস্তা বা অ্যান্টেনা যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত ইন্টারনেটে একাধিক ডেটা লেন বা পথ প্রয়োজন। মাইমো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে রাউটার একই সাথে একাধিক ডেটা স্ট্রিম পরিচালনা করতে পারে, যা নেটওয়ার্কের গতি বাড়ায়।
বিমিংফর্মিং ও সংকেতের স্থায়িত্ব
একাধিক অ্যান্টেনার আরেকটি সুবিধা হলো বিমিংফর্মিং (Beamforming)। এটি রাউটারকে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের অবস্থান শনাক্ত করে সরাসরি সেই অভিমুখে শক্তিশালী সিগন্যাল পাঠাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ঘরের দেয়াল বা আসবাবপত্রে প্রতিফলিত হয়ে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হলেও, একাধিক অ্যান্টেনা থাকার কারণে ডিভাইসটি যেকোনো একটি অ্যান্টেনা থেকে পরিষ্কার সংকেত গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া এমইউ-মাইমো (MU-MIMO) প্রযুক্তির মাধ্যমে রাউটার একই সময়ে একাধিক ডিভাইসের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
কয়টি অ্যান্টেনা প্রয়োজন?
সাধারণ ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য দুই থেকে চারটি অ্যান্টেনার রাউটারই যথেষ্ট। আটটি অ্যান্টেনার রাউটার বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য অতিরিক্ত। ওয়াই-ফাইয়ের কার্যকারিতা কেবল অ্যান্টেনার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং এর সফটওয়্যার এবং ওয়াই-ফাই স্ট্যান্ডার্ডও গুরুত্বপূর্ণ। কভারেজ বাড়াতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যান্টেনার বদলে মেশ নেটওয়ার্ক (Mesh Network) ব্যবহার করা অধিক কার্যকর। তবে অফিস বা ক্যাফের মতো জনাকীর্ণ স্থানে যেখানে অনেক মানুষ একসাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সেখানে উচ্চ ক্ষমতার রাউটার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে মনে রাখা জরুরি যে, রাউটারে বেশি অ্যান্টেনা থাকলেই ইন্টারনেটের গতি বাড়ে না, বরং ইন্টারনেটের গতি আপনার আইএসপি বা সেবাদাতার প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে।