যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের স্কারবোরো এলাকায় এই গ্রীষ্মে প্রচুর হাঙর দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও গবেষকদের নজরে এসেছে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উপকূলীয় অঞ্চলে আগত পর্যটকদের পানিতে নামার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বেশ কয়েকটি সাদা হাঙরের উপস্থিতি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে।
গবেষকদের মতে, এ বছর সাদা হাঙর দেখার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেইন-এর সামুদ্রিক বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. ওয়াল্ট গোলেট জানান, এই বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। সমুদ্রতীরের অনুকূল আবহাওয়া এবং সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে হাঙরের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
মেইন ডিপার্টমেন্ট অফ মেরিন রিসোর্সেসের বিজ্ঞানী ম্যাট ডেভিস বলেন, হাঙর দেখার খবর অনেক ক্ষেত্রে বিচ ট্যুরিজম বা ভালো আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে মানুষ এখন অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন, যা হাঙর চিহ্নিত করার হার বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্কারবোরোর হারবার মাস্টার ও মেরিন রিসোর্স অফিসার ড্যারিয়েন গ্রানাটা জানান, জুলাই মাসের শুরু থেকেই তারা হাঙর দেখার অসংখ্য খবর পাচ্ছিলেন। পাইন পয়েন্ট বিচ থেকে শুরু করে স্কারবোরো বিচ স্টেট পার্ক ও হিগিন্স বিচ এলাকা পর্যন্ত হাঙর ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী গ্রানাটার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে তরুণ হাঙরের আনাগোনা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা হাঙরের এই উপস্থিতিকে পরিবেশগত ভারসাম্য ও সফল প্রজননের ফল হিসেবে দেখছেন। নব্বইয়ের দশকে ফেডারেল সরকারের সুরক্ষানীতি এবং সাগরে সিল মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাদা হাঙরের খাদ্য সরবরাহ বেড়েছে, যা তাদের বংশবিস্তারে সহায়তা করছে। তবে মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাঙর এখন উপকূলের কাছাকাছি দীর্ঘসময় অবস্থান করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সাঁতারুদের জন্য কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এতে ভোর ও গোধূলি বেলায় সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এ সময়ে হাঙর বেশি সক্রিয় থাকে। এছাড়া একা পানিতে না নামা, ঝাপসা পানিতে না ঢোকা এবং শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সমুদ্র এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।