যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর জেলা আদালতে সনি মিউজিক এবং ওয়ার্নার চ্যাপেল এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কপিরাইটযুক্ত হাজার হাজার গানের স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে করা এই মামলাটিকে কোম্পানিগুলো ইতিহাসের অন্যতম বড় মেধাস্বত্ব চুরির ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে। মামলায় প্রতিটি গানের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং তথ্য মুছে ফেলার প্রতিটি ঘটনার জন্য ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ অংকের জরিমানা ধার্য করলে এই মামলার ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মামলার বিবরণ
প্রতিষ্ঠান দুটি শুধু কোম্পানিকেই নয়, অ্যানথ্রোপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদি এবং বেঞ্জামিন ম্যানকেও বিবাদী করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেঞ্জামিন ম্যান বিটটরেন্টের মাধ্যমে ৫০ লাখেরও বেশি পাইরেটেড বই ডাউনলোড করেছিলেন। এছাড়া অ্যানথ্রোপিকের কর্মীরা পাইরেট লাইব্রেরি মিরর থেকে আরও অন্তত ২০ লাখ বই সংগ্রহ করেছে। সনি ও ওয়ার্নারের দাবি, কোম্পানিটি মিউজিকম্যাচ এবং লিরিকফাইন্ডের মতো সাইট থেকে লিরিক চুরি করে তাদের ‘ক্লদ’ এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু গান
অ্যানথ্রোপিকের এআই প্রশিক্ষণের তথ্যে মারভিন গে এবং ট্যামি টেরেলের ‘এইন্ট নো মাউন্টেন হাই এনাফ’, বন জোভির ‘লিভিন অন এ প্রেয়ার’, আর্থ, উইন্ড অ্যান্ড ফায়ারের ‘সেপ্টেম্বর’, লিওনার্ড কোহেনের ‘হালেলুইয়া’ এবং টেলর সুইফটের ‘পেপার রিংস’-এর মতো জনপ্রিয় গানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বের ঘটনা
অ্যানথ্রোপিক সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেশ কিছু আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। এর আগে প্রকাশনা শিল্পের সাথে করা একটি মামলায় কোম্পানিটিকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিল। এছাড়া ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ, কনকর্ড, এবিকেও, বিএমজি এবং রাউন্ড হিল মিউজিকও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে পৃথক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সনি ও ওয়ার্নার চ্যাপেলের এই অভিযোগের বিষয়ে অ্যানথ্রোপিকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।