রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীন (৫৬) নিহতের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিক। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে র্যাবের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের অমিল পাওয়ায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ঘটনার পর র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইয়ামাহা আর-১৫ মডেলের একটি সাদা রঙের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ছিনতাইয়ের কাজে এই বাইকটিই ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে সংবাদের সঙ্গে প্রকাশ পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছিনতাইকারীরা নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া প্রধান সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বাইকের রঙের সঙ্গে তার বাইকের কোনো মিল নেই।
র্যাবের দেওয়া তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের চালকের সঙ্গে মোশাররফের দৈহিক গঠন এবং নিহতের স্বামীর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের আটক করা হয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
নিহতের স্বামী আবদুল মতিন জানান, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মোটরসাইকেলের রঙ খেয়াল করতে পারেননি। তবে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করেছেন। র্যাব জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।