মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের বাধ্যবাধকতায় এই তালিকা নির্বাচনে বাংলাদেশের সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মালয়েশিয়া সরকারই এই এজেন্সিগুলো নির্বাচন করেছে।
শ্রমবাজারের এই তালিকা নিয়ে খোদ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যেই ক্ষোভ ও অস্পষ্টতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তালিকায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানের বিদেশে কর্মী পাঠানোর কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি লাইসেন্স পাওয়ার পর একটি কর্মীও পাঠায়নি—এমন অনেক প্রতিষ্ঠানও তালিকায় স্থান পেয়েছে। ফলে পুরোনো সিন্ডিকেটই নতুন নামে বাজারে ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে অতিরিক্ত খরচ ও চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত এক দশকে একাধিকবার বাজারটি বন্ধ ও চালু হওয়ার নেপথ্যে এই সিন্ডিকেট বিতর্ক বড় ভূমিকা পালন করেছে। রিক্রুটিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১ হাজার ৪০০ বৈধ এজেন্সির পরিবর্তে মাত্র কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজের সুযোগ দেওয়া আগে থেকেই অসংগতিপূর্ণ ছিল, আর এবার সেই পরিধি আরও সীমিত করা হয়েছে।
তবে সরকার এই প্রক্রিয়াকে একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে দেখছে। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকার মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বিশেষ উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে আগামী তিন মাসে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল তালিকার আকার বাড়িয়ে সমস্যা সমাধান হবে না। ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন চুক্তিতে সব বৈধ এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। অভিজ্ঞতাহীন এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠালে শেষ পর্যন্ত প্রতারণা ও অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকিই থেকে যাবে বলে মত তাদের।