যুক্তরাজ্যের লন্ডনে লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট চলাকালীন টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান ধারা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটন। তিনি জানিয়েছেন, কেন টেস্ট ম্যাচগুলো এখন নির্ধারিত পাঁচ দিনের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রভাব, উন্নত মানের ফাস্ট বোলিং, ডিআরএস প্রযুক্তি এবং ঘরের মাঠে বোলার-বান্ধব পিচ তৈরির প্রবণতা এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে ৭৭.৬৫ শতাংশ টেস্ট ম্যাচ পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতো, যা ২০২০-এর দশকে কমে ৪১.৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্টোদিকে, তিন দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার হার ১৯৭০-এর দশকে ছিল মাত্র ২.৭৯ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ২০.৩২ শতাংশ হয়েছে। ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার কোনো ঘটনা না থাকলেও, গত এক দশকে এমনটি হয়েছে নয়বার।
আথারটনের মতে, আধুনিক ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং কৌশলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রভাব স্পষ্ট। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের যে অভ্যাস গড়ে উঠেছে, তা টেস্ট ক্রিকেটেও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে ব্যাটসম্যানরা দ্রুত আউট হয়ে যাচ্ছেন, যা ম্যাচের স্থায়িত্ব কমিয়ে দিচ্ছে।
ফাস্ট বোলিং ও ডিআরএস প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকজন মানসম্মত ফাস্ট বোলার রয়েছেন। পাশাপাশি ডিআরএস প্রযুক্তি আম্পায়ারদের এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছে।
ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর পর থেকে ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে বলে মনে করেন আথারটন। তিনি বলেন, ভারত বা ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো তাদের বোলিং শক্তির কথা মাথায় রেখে পিচ তৈরি করছে, যা মূলত বোলারদের সহায়তা করছে এবং ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার পথ তৈরি করছে।