ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে এক্সবক্স কনসোলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে মাইক্রোসফট। কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর এবার ইউরোপীয় বাজারে এই পদক্ষেপ নিল কোম্পানিটি। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে গেমিং কনসোল কেনা ক্রেতাদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, ৫১২ জিবি এক্সবক্স সিরিজ এস-এর দাম দাঁড়িয়েছে ৪৯৯.৯৯ ইউরো এবং ১ টেরাবাইট মডেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৯৯.৯৯ ইউরো। এছাড়া ডিজিটাল এক্সবক্স সিরিজ এক্স-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪৯.৯৯ ইউরো এবং ডিস্ক সংস্করণের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৯৯.৯৯ ইউরো।
যুক্তরাজ্যের ক্রেতারাও এই মূল্যবৃদ্ধির আওতার বাইরে নেই। মডেলভেদে সেখানে কনসোলের দাম ১৩০ থেকে ১৭০ পাউন্ড পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ছয় বছর আগে আসা একই হার্ডওয়্যারের জন্য মাইক্রোসফট বর্তমানে অনেক বেশি দাম দাবি করছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব
মেমোরি ও স্টোরেজ ডিভাইসের খরচ আড়াই গুণ বেড়ে যাওয়া এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা আরও দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটির নতুন প্রকল্প ‘প্রজেক্ট হেলিক্স’-এর হার্ডওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত খরচ বড় ভূমিকা রাখবে। পরবর্তী প্রজন্মের এক্সবক্স কনসোলে কাস্টম এএমডি চিপ ব্যবহার করা হবে, যা রেন্ডারিং ও রে-ট্রেসিং পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনবে। তবে উন্নত সিলিকন ও দ্রুতগতির মেমোরির উচ্চ মূল্যের কারণে কনসোলটির দাম কত হবে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মাইক্রোসফটের বর্তমান পরিস্থিতি
ইতিমধ্যেই মাইক্রোসফটের গেমিং বিভাগ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে গেমিং রাজস্ব ১০ শতাংশ এবং হার্ডওয়্যার রাজস্ব ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পুরো অর্থবছরে হার্ডওয়্যার বিক্রির আয় কমেছে ২৯ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩,২০০ কর্মী ছাঁটাইসহ বড় ধরনের পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। প্লে-স্টেশন ও নিনটেনডোর তুলনায় অপারেটিং মার্জিন পিছিয়ে থাকায় এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না পাওয়ায় বর্তমান প্রজন্মের কনসোল নিয়ে মাইক্রোসফট বড় চাপের মুখে রয়েছে।