বাংলাদেশের ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই সম্পদ উদ্ধারে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে দুদক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক নিজের ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য নিট আয় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার কিছু বেশি। এ ছাড়া তার ও তার সহযোগীদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছে দুদক।
অভিযোগপত্রে আনিসুল হক ছাড়াও তার কথিত কাজিন মোহাম্মদ ইকবাল, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক কলিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনিসুল হককে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে সিটিজেনস ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সম্পদ অর্জন করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত শেষে দুদক আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছেন। এখন এটি আদালতে দাখিল করা হবে।