যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি শোধনাগার ও স্থাপনায় হামলা চালানোর কারণেই বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা বন্ধ না করলে বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে নিজের পুরোনো কৌশলে ফিরেছেন ট্রাম্প।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের ভিন্নমত
ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা। টেক্সাসভিত্তিক লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের মতে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা জ্বালানি সংকটের বড় কারণ। কেবল ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। কিয়েভ বরাবরই তাদের যুদ্ধযন্ত্র সচল রাখতে রাশিয়ার অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত করাকে কৌশলগত প্রতিরক্ষা হিসেবে দেখে আসছে।
রাশিয়ার অবস্থান
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বাড়তি সুবিধা দেখছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাশিয়া সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তবে একইসাথে তিনি রাশিয়ার ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পেসকভের দাবি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউক্রেনের জন্য নতুন কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কিয়েভ সফর করলেও, ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির সরাসরি ফোনালাপ হয়নি। বিপরীতে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। এছাড়া ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নিজেদের জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন মার্কিন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।