যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল নিশ্চিত করেছে যে, মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি কমছে না, বরং এটি আগের মতোই দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক সাময়িকীতে প্রকাশিত এই নতুন গবেষণায় গত বছর মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীর হয়ে আসার যে দাবি করা হয়েছিল, তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষক দলের দাবি, গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণায় মহাবিশ্বের প্রসারণ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা মূলত তথ্যের ভুল বিশ্লেষণের কারণে ঘটেছে। এই নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করার পেছনে ‘ডার্ক এনার্জি’ নামক এক রহস্যময় শক্তির ভূমিকা এখনও অটুট রয়েছে।
সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিল ওয়াইজম্যান এবং তার সহকর্মীরা জানান, তাদের এই গবেষণা জ্যোতির্বিজ্ঞানের চিরাচরিত পরিমাপের সত্যতা প্রমাণ করেছে। তাদের মতে, মহাবিশ্বের ভাগ্য নিয়ে বর্তমান ধারণা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য। তবে এই প্রসারণ কেন ঘটছে, সেই ডার্ক এনার্জির প্রকৃত স্বরূপ এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা।
গবেষণার পটভূমি
২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অ্যাডাম রিস এবং ব্রায়ান শ্মিট মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের জন্য টাইপ-১এ সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। মহাবিশ্বের প্রসারণের এই তত্ত্বটি দীর্ঘকাল ধরে স্বীকৃত। তবে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে, সুপারনোভার উজ্জ্বলতা ও দূরত্বের বিচারে মহাবিশ্বের প্রসারণ ধীর হয়ে আসছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা সুপারনোভার বয়স এবং সেগুলোর হোস্ট গ্যালাক্সির ভরের যথাযথ হিসাব করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই ভুলগুলো সংশোধন করে দেখা গেছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের প্রমাণগুলো আগের মতোই অকাট্য। গবেষকদের মতে, এই বিতর্কটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যা সুপারনোভার বিস্ফোরণ এবং ডার্ক এনার্জি পরিমাপের পদ্ধতিকে আরও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।