বাংলাদেশের সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিশুশ্রমের প্রভাব ও তা নিরসনের উপায় নিয়ে ‘পরিচিত মুখ, অপরিচিত প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক এবং মনোবিজ্ঞানীরা শিশুশ্রমের নেপথ্যের কারণ ও প্রতিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এ এম হাবীব ওসমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, জাতীয় উন্নয়ন মডেল ও সামাজিক কাঠামোর ত্রুটির কারণে শিশুশ্রমের চক্রটি বারবার ফিরে আসছে। দেশে আইনের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও শুধু আইনের প্রয়োগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ৮৫ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ অসংগঠিত খাতে কাজ করায় দারিদ্র্যের চাপে অভিভাবকরা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পাঠাতে বাধ্য হন। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি শুধু শিশুদের শৈশবই ধ্বংস করছে না, বরং মেধার অপমৃত্যুর মাধ্যমে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহিন মোল্লা বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও এনজিওগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিশুশ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক এম এম ময়েজউদ্দীন বলেন, শিশুশ্রমিকরা শৈশব থেকে নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার চর্চা থেকে বঞ্চিত। তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনা বিকাশে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত। সভায় বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মরত শিশুশ্রমিকদের তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি উন্মুক্ত ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন।