স্পেনের কাতালুনিয়ার লেইদা প্রদেশের পেদ্রেদা দে মেইয়া এলাকায় গবেষকরা ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের একটি বিলুপ্তপ্রায় কুমিরজাতীয় প্রাণীর জীবাশ্মে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যের সন্ধান পেয়েছেন। আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভি) রশ্মি ব্যবহার করে পরিচালিত গবেষণায় প্রাণীর ত্বক, শ্বাসতন্ত্র এবং লেজে অদ্ভুত কিছু ছাপ পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন যুগে এর বেঁচে থাকার কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে। এই গবেষণার ফলাফল জুওলজিক্যাল জার্নাল অব দ্য লিনিয়ান সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক অস্কার কাস্তিলো-ভিসা ও তার দলের তথ্যমতে, মন্টসেকোসুচাস ডেম্পেরিতি নামের এই প্রাণীটির জীবাশ্মের লেজে একান্তর রঙের ব্যান্ড লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের ধারণা, এটি প্রাচীন ছদ্মবেশের নিদর্শন হতে পারে, যা প্রাণিটিকে পরিবেশের সাথে মিশে থাকতে সাহায্য করত। এটি কুমিরজাতীয় প্রাণীর রঙের ইতিহাসের প্রাচীনতম প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউভি আলোক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জীবাশ্মের এমন সব সূক্ষ্ম অংশ দৃশ্যমান হয়েছে, যা সাধারণ চোখে দেখা অসম্ভব ছিল। এর মাধ্যমে প্রাণীর ত্বকের আঁশ, ঘাড় ও লেজের পাশে অবস্থিত সম্ভাব্য সংবেদনশীল অঙ্গ এবং উন্নত তরুণাস্থিযুক্ত বুকের খাঁচা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাণীটি সে সময়েও জলজ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী উন্নত শ্বাসতন্ত্রের অধিকারী ছিল।
পেদ্রেদা দে মেইয়া এলাকাটি জীবাশ্ম সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এখানে সংরক্ষিত মন্টসেকোসুচাস ডেম্পেরিতির এই দেহাবশেষটি প্রাণীর বিবর্তনীয় ইতিহাস ও সে সময়ের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন যে ঠিক কোন রঙের বিন্যাসে এর লেজটি ঢাকা ছিল, তবে আধুনিক প্রজাতির কুমিরের সাথে এর সাদৃশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।