যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ম্যাক মিলারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে হাউস এথিক্স কমিটি। মিলারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং অবৈধ মাদক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা কংগ্রেসের আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। তবে কমিটি স্পষ্ট করেছে যে, তদন্ত শুরু হওয়ার অর্থ এই নয় যে আইনপ্রণেতা কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ম্যাক মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য হাউস এথিক্স কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছেন। নিজের নাম নির্দোষ প্রমাণ করতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তার ভাষ্যমতে, তিনি তার পরিবার ও নিজের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চান।
অভিযোগের বিবরণ
মিলার বর্তমানে তার প্রাক্তন স্ত্রী এমিলি মোরেনোর সাথে একটি তিক্ত আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এমিলি মোরেনো ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বার্নি মোরেনোর মেয়ে। আদালত নথি অনুযায়ী, এমিলি অভিযোগ করেছেন যে মিলার তাকে মারধর এবং গরম পানি ছুঁড়ে আঘাত করেছেন। এছাড়া তার মাথায় বন্দুক ঠেকানো এবং তাদের শিশুকন্যার কলারবোন ভেঙে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
মিলারের প্রতিক্রিয়া
মিলার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, গরম পানি সংক্রান্ত ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ মজার বিষয় ছিল এবং তিনি কোনোভাবেই শারীরিক নির্যাতনের সাথে জড়িত নন। তবে তার প্রাক্তন স্ত্রী এমিলির বাবা, সিনেটর বার্নি মোরেনো দাবি করেছেন যে, মিলার মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি জনপদে থাকার যোগ্য নন।
রাজনৈতিক প্রভাব
ম্যাক মিলার তার নির্বাচনী এলাকা থেকে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও এই বিতর্কের কারণে রিপাবলিকান পার্টি চাপে পড়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কের জেরে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ব্রায়ান পয়েনডেক্সটার আসনটি দখল করে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে রিপাবলিকান দল।