যুক্তরাষ্ট্রের সিওএমএসপিওসি (COMSPOC)-এর প্রধান বিজ্ঞানী ড্যান অলট্রোগের মতে, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহের নিরাপত্তা এবং সামরিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে মহাকাশ পরিস্থিতিগত সচেতনতা বা স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস (SSA) তথ্যের ওপর। এই তথ্যগুলো সঠিক ও নির্ভুল হওয়ার ওপর ভিত্তি করেই নীতিনির্ধারকরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে নতুন গবেষণার ফলাফল বলছে, বর্তমান মহাকাশ কাঠামোতে ঝুঁকি মোকাবিলার পদ্ধতিগুলো নতুন করে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিদিন মহাকাশযান পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য সংঘর্ষের সতর্কতা পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে তারা স্যাটেলাইট সরিয়ে নেবেন কি না। এই সিদ্ধান্তের ওপর জ্বালানি খরচ, পরিষেবার নিরবচ্ছিন্নতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত থাকে। সিওএমএসপিওসি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে অপারেটররা মাত্র ৭ শতাংশ সংঘর্ষের ঝুঁকি সফলভাবে কমাতে পারছেন। এর মানে হলো, মহাকাশে দুর্ঘটনা এড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে কৌশলের চেয়ে অনেকটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রকৃত ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এতে দুই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। একদিকে ভুল তথ্যের কারণে অনেক সময় প্রকৃত ঝুঁকি উপেক্ষা করা হয়, আবার অন্যদিকে ভুল সংকেতের কারণে প্রচুর সময় ও জ্বালানি নষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে মহাকাশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় এই আস্থার ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ড্যান অলট্রোগের মতে, কেবল বেশি তথ্য সংগ্রহ করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ, তথ্য শেয়ারিং এবং সরকার ও অপারেটরদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। বাণিজ্যিক বাজারে বর্তমানে এমন উন্নত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সহজলভ্য, যা উপগ্রহের অবস্থানের নির্ভুলতা বাড়াতে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার সাফল্য কেবল কতগুলো পর্যবেক্ষণ করা হলো তার ওপর পরিমাপ করা উচিত নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্যের ওপর অপারেটররা কতটা আস্থা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, সেটাই হওয়া উচিত মূল মাপকাঠি। মহাকাশে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার এই যুগে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধিই হবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও সক্ষমতা ধরে রাখার প্রধান শর্ত।