ঢাকাThursday , 5 November 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ইন্দোনেশিয়ায় ভূগর্ভস্থ পিট কয়লার আগুনে বিপন্ন জনজীবন

International Desk
September 7, 2026 3:15 am
Link Copied!

ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র খরা ও এল নিনোর প্রভাবে দেশটির পিট বা জলাভূমির মাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রবার্ট ফিল্ড সতর্ক করে বলেছেন, আগুনের তীব্রতা ২০১৫ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মাটির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে এই আগুন জ্বলতে থাকায় তা সহজে নেভানো সম্ভব হচ্ছে না, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

সাধারণত ইন্দোনেশিয়ার জলাভূমিগুলো আর্দ্র থাকায় সেখানে সহজে আগুন ধরে না। কিন্তু বর্তমানে তীব্র খরা ও এল নিনোর প্রভাবে মাটি শুকিয়ে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটছে। একবার মাটির নিচে আগুন ঢুকে পড়লে তা অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। এই আগুনের কারণে প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড, মিথেন ও সালফার ডাই অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা সাধারণ বনভূমির আগুনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দূষণ তৈরি করে।

উপগ্রহের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হলেও আগুনের ধোঁয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক সময় নিখুঁতভাবে অগ্নিকাণ্ডের স্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুবিজ্ঞানী মার্ক কোচরান জানান, মাটির নিচে থাকা এই আগুন মহাকাশ থেকে সরাসরি দেখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই পরিস্থিতির কারণে ইন্দোনেশিয়ার অনেক এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু স্কুল অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, জাতীয় উদ্যান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ধোঁয়ার কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

নব্বইয়ের দশকে জলাভূমি শুকিয়ে কৃষি জমি ও পাম বাগান তৈরির উদ্যোগের ফলে এই এলাকাগুলো আরও বেশি অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ হয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের বিপর্যয়ের পর থেকে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলতি বছরের দাবদাহ সেই ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের পরীক্ষা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজ্ঞানীরা নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।