যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩.২ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা ও সমঝোতা ঘোষণা করেছে। মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা এবং স্থানীয়দের বদলে অস্থায়ী ভিসাধারী কর্মীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানোর অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, আইন অনুযায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মার্কিন নাগরিকদের সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তদন্তে যা পাওয়া গেছে
বিচার বিভাগের তদন্ত অনুযায়ী, ওপেনএআই নিয়ম মেনে তাদের ওয়েবসাইটে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করেনি। এছাড়া, অন্যান্য পদের জন্য অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকলেও, নির্দিষ্ট কিছু পদের জন্য তারা প্রার্থীদের ডাকযোগে কাগজের আবেদন পাঠাতে বাধ্য করেছিল। এমনকি গভীর রাতে রেডিওতে বিজ্ঞাপনের মতো অস্পষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল, যাতে মার্কিন কর্মীরা আবেদনের সুযোগ না পায়। স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার আগে মার্কিন কর্মীদের প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু ওপেনএআই সেই নিয়ম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চুক্তির শর্তাবলী
সমঝোতার অংশ হিসেবে ওপেনএআইকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে হবে এবং ইলেকট্রনিক আবেদন গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কর্মীদের ইমিগ্রেশন ও ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের বৈষম্যবিরোধী নীতিমালা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জরিমানার ৩.২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১.২ মিলিয়ন ডলার সিভিল পেনাল্টি হিসেবে সরকারকে দেওয়া হবে এবং বাকি ২ মিলিয়ন ডলার বৈষম্যের শিকার হওয়া কর্মীদের ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যারা এই পদের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু ন্যায্য সুযোগ পাননি, তাদের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মেটা ও অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও অতীতে একই ধরনের অভিযোগে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছিল। প্রযুক্তি খাতে অভিবাসী কর্মীর ওপর নির্ভরশীলতা বেশি থাকলেও, বর্তমান অভিবাসন নীতি ও আইনি বিধিনিষেধের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।