জাপানের নাগোয়া শহরে গবেষকরা মস্তিষ্কের এমন একটি প্রক্রিয়া শনাক্ত করেছেন, যা মানুষকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘসময় পরিশ্রম করতে সাহায্য করে। নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক হিরোয়ুকি মিজোগুচি এবং কিয়োফুমি ইয়ামাদা ওরেক্সিন নিউরন নামক মস্তিষ্কের বিশেষ কোষের কার্যকারিতা নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা (PNAS) জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ওরেক্সিন নিউরনগুলো আমাদের মস্তিষ্কে পুরস্কার বা প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে পরিশ্রমের মানসিক শক্তিতে রূপান্তর করতে ভূমিকা রাখে। সাধারণত বিষণ্নতা, আসক্তি এবং এডিএইচডি (ADHD)-র মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় মানুষের অনুপ্রেরণা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। মস্তিষ্কের ঠিক কোন প্রক্রিয়ার কারণে মানুষ এমন অনুপ্রেরণা হারায়, তা বুঝতে এই নতুন আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
পরীক্ষাগারে ইঁদুরের ওপর গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা জিনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘ওরেক্সিন-ক্রি’ ইঁদুর তৈরি করেন। এরপর কেমোজেনেটিক্স পদ্ধতির মাধ্যমে ওই নিউরনগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে দেখা যায়, যাদের মস্তিষ্কে এই নিউরনগুলো সক্রিয়, তারা পুরস্কার পাওয়ার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে আগ্রহী। এর বিপরীতে, যেসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নিউরনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
গবেষণার তথ্যমতে, ওরেক্সিন নিউরনের কার্যকারিতা সরাসরি কাজের চাপের সাথে সম্পর্কিত। যখন কোনো লক্ষ্য পূরণের জন্য পরিশ্রমের পরিমাণ বাড়ে, তখন এই নিউরনগুলোর সক্রিয়তাও বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের মতে, এই নিউরনগুলো পুরস্কারের প্রত্যাশা এবং সেটি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে।
ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কোন সার্কিটগুলো ওরেক্সিন নিউরনের কাছে তথ্য পাঠায় এবং কীভাবে তা কাজ করে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ভবিষ্যতে মানুষকে কাজে মনোযোগী করে তোলা এবং দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার মতো সমস্যার নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরিতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান হিরোয়ুকি মিজোগুচি।