বাংলাদেশের কুমিল্লার কোটবাড়িতে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক শাহরিয়া আনাসকে ছেড়ে দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম রোববার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আনাসকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
তদন্তের অবস্থা
এসআরবি জানায়, আটক অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে আনাসের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদেও তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আবারও ডাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে আনাসকে আটকের পর তার ফেসবুকের একটি শোকবার্তাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ প্রথমে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে।