যুক্তরাজ্যের সুইন্ডনের চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান ড্রেসএবিলিটি অব্যবহৃত নতুন পোশাক ল্যান্ডফিলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার শ্যারন টম্বস জানিয়েছেন, ব্র্যান্ডের লোগো অপসারণ বা পরিবর্তনের মাধ্যমে পোশাকগুলো অভাবী মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও দুঃস্থদের সহায়তার লক্ষ্যে নেওয়া এই প্রকল্পটি বর্তমানে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
শুরুর দিকে সুইন্ডন ও উইল্টশায়ারের বিভিন্ন সংস্থায় এই পোশাক দেওয়া হলেও, বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় লিভারপুলসহ ইউক্রেনেও ত্রাণ হিসেবে তা পাঠানো হচ্ছে। শ্যারন টম্বস জানান, ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত মূল্যের নতুন কোটসহ বিভিন্ন পোশাক তারা সংগ্রহ করেন, যা গৃহহীনদের মতো অসহায় মানুষদের শীতের কষ্ট লাঘবে বড় ভূমিকা রাখছে।
ড্রেসএবিলিটি মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পোশাক পরিবর্তনের কাজ করে থাকে। তবে কোনো একটি কোম্পানি ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পর প্রচুর নতুন কোট নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে তারা এই রিব্র্যান্ডিং প্রকল্পটি চালু করে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বাড়তি বা লোগো ত্রুটিযুক্ত পোশাকের জোগান বাড়ছে। ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ারের ওসনিক এমব্রয়ডারি নামক একটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তাদের অব্যবহৃত স্টক এই চ্যারিটি সংস্থাকে দিয়ে থাকে।
সুইন্ডন নাইট শেল্টারের ম্যানেজার ডন প্রোজার জানান, এই উদ্যোগটি শুধু মানুষকে উষ্ণ রাখছে না, বরং তাদের আত্মসম্মানবোধ বাড়াতেও সহায়তা করছে। গৃহহীন অবস্থায় এই পোশাক পাওয়া প্যাট্রিক লুইস বলেন, শীতের সময়ে এই কোটগুলো তাকে অনেক সুরক্ষা দিয়েছিল।
প্রতি বছর প্রায় এক হাজারেরও বেশি পোশাক এভাবে নতুন রূপ পেয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। কাজের চাপ সামলাতে ও ল্যান্ডফিলে বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে ড্রেসএবিলিটি এখন স্থানীয় সেলাই কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।