ঢাকাThursday , 6 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

এআই আতঙ্কে ফিলিপাইনের আউটসোর্সিং কর্মীরা: নিজের কবর নিজেই খোঁড়ার আক্ষেপ


August 6, 2026 7:45 am
Link Copied!

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আউটসোর্সিং খাতে কর্মরত কর্মীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। লিসা নামের এক কন্টেন্ট রাইটার জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর এই পেশায় যুক্ত থাকার পর তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তার অভিযোগ, কোম্পানিগুলো তাকে দিয়ে এমন সব এআই টুল তৈরি বা প্রশিক্ষণের কাজ করিয়ে নিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তার নিজের কর্মসংস্থানই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তার ভাষায়, তিনি যেন নিজের কবর নিজেই খুঁড়েছেন।

আউটসোর্সিংয়ের হাব হিসেবে পরিচিত ফিলিপাইনে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং খাতে কাজ করেন, যা দেশটির অর্থনীতির ১০ শতাংশ জোগান দেয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইনেই সবচেয়ে বেশি মানুষ এআই ঝুঁকিতে রয়েছে।

আইটি অ্যান্ড বিজনেস প্রসেস অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ফিলিপাইনস-এর প্রেসিডেন্ট জ্যাক মাদ্রিদ স্বীকার করেছেন যে, এআই খাতের কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলছে। তবে তার দাবি, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরই অন্য কাজে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যদিও অনেক কর্মী বলছেন, এআই আসার পর কাজের চাপ উল্টো বেড়েছে, কারণ এআই-এর তৈরি তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সম্পাদনায় তাদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলো খরচ কমাতে মরিয়া হয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ছাঁটাই হলেও কোম্পানিগুলো একে এআই ব্যবহারের অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করছে। ফিলিপাইনের শ্রম গ্রুপগুলোর অভিযোগ, দেশটিতে এআই প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কর্মীরা অসহায় হয়ে পড়ছেন।

ফিলিপাইন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা লিয়ান্দ্রো আগুইরে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ৩ লাখ কর্মীকে নতুন করে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা করছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কেবল বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় মেধা ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।