যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দেশটির সিনেট কমার্স কমিটি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’ (কোসা)-এর সর্বশেষ সংস্করণটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেট ফ্লোরে পাঠানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে। পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে বিলটি পাস হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ নিজস্ব সংস্করণে এই বিলটি পাস করে, যা কিডস ইন্টারনেট অ্যান্ড ডিজিটাল সেফটি (কেআইডিএস) অ্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিলটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রস্তাবিত এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা। সিনেটের বর্তমান সংস্করণ অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোকে এমন ফিচার যুক্ত করতে হবে যার মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা অ্যালগরিদম-ভিত্তিক আসক্তিমূলক ফিচারগুলো থেকে দূরে থাকতে পারবে। এছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি ‘ডিউটি অব কেয়ার’ বা যত্ন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যাতে যৌন শোষণ বা খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধির মতো ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে প্রতিনিধি পরিষদের পাস করা সংস্করণে এই বিধানটি নেই।
বিতর্ক ও ভিন্নমত
বিলটিকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিশিল্প এবং ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ওপেনএআই, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, এক্স এবং স্ন্যাপের মতো কোম্পানিগুলো বিলটিকে সমর্থন জানালেও নেটচয়েসের মতো শিল্পগোষ্ঠী এবং ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, এই আইনটি বাকস্বাধীনতা খর্ব এবং ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
ফাইট ফর দ্য ফিউচার নামের একটি সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিলটির যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে তা সেন্সরশিপ ও নজরদারির একটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ+ তরুণদের অনলাইন কমিউনিটির জন্য এটি বড় ধরনের বাধা হতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-এর জ্যেষ্ঠ নীতি পরামর্শক জেনা লেভেন্টফ বলেন, এই বিলের আওতায় বয়সের প্রমাণ যাচাইয়ের নামে যে বায়োমেট্রিক বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।