জার্মানির মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন ও বার্লিন রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ও বামপন্থী দলগুলোর উত্থানে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নির্বাচনের এই ফলাফলকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর মের্ৎস এবং তিনি দেশটিতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে কট্টর ডানপন্থী দল আলটারনাটিভে ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি)। সেখানে সিডিইউ পেয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বার্লিনে বামপন্থী ডি লিংক পার্টি ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে সিডিইউ পেয়েছে ২০ শতাংশ। রাজ্য পর্যায়ে আসন নিশ্চিত করার জন্য অন্তত ৫ শতাংশ ভোটের প্রয়োজন হয়।
ফলাফল প্রকাশের পর চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ে ভালো কিছু বলার সুযোগ নেই এবং এটি একটি চরম বিপর্যয়। তিনি জানান, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও এএফডির তীব্র মেরুকরণের চাপে সিডিইউর জন্য কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে এবং দেশের গভীর বিভাজন নিরসনে এখনই সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী ফলাফলের পর এএফডির সহনেত্রী অ্যালিস ওয়াইডেল দাবি করেন, এএফডি এখন সাধারণ মানুষের দলে পরিণত হয়েছে এবং সিডিইউর চেয়ে এগিয়ে গেছে। তিনি চ্যান্সেলর মের্ৎসের নেতৃত্বকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্প এই জয়কে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও ন্যায়ের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রায় ৭৫ বছর আগে ১৯৫১ সালে ব্রেমেন রাজ্যে সিডিইউ ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, যা ছিল দলটির ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এবারের নির্বাচনী ফলাফলে সিডিইউর নড়বড়ে অবস্থা দলের অভ্যন্তরীণ চাপের পাশাপাশি চ্যান্সেলরের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে চ্যান্সেলর মের্ৎস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার সফর বাতিল করেছেন।