যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও থ্রেডস প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি শিশু যৌন নির্যাতনের অর্ধশতাধিক বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের (টিটিপি) গবেষকরা জানিয়েছেন, গত নয় মাসে এই বিজ্ঞাপনগুলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। টিটিপির পরিচালক কেটি পলের ভাষ্যমতে, এসব বিজ্ঞাপন মেটার নিজস্ব বিজ্ঞাপন যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিয়েছে এবং কোম্পানিটি এর বিনিময়ে অর্থ আয় করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনগুলোতে শিশুদের ছবি বিকৃত করে যৌন উত্তেজক ও আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ‘নিডিফাই’ বা পোশাক খোলার অ্যাপের সাথে যুক্ত ছিল। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন লাইব্রেরি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষকরা দেখেছেন, গত নভেম্বর থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত এসব বিজ্ঞাপন সক্রিয় ছিল। অন্তত একটি বিজ্ঞাপন ইউরোপের আড়াই হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে।
ঘটনার গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া
মেটার নীতিমালা অনুযায়ী শিশু যৌন শোষণ বা নগ্নতা প্রচার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। টিটিপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরে আসার পর মেটা তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে ফেলেছে। মেটার একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং শিশু যৌন শোষণ রোধে তারা প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিনিয়ত সক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এমন অনেক বিজ্ঞাপনও পাওয়া গেছে যা আগে একবার অপসারণ করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় সেগুলো মেটার প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও অ্যাপ স্টোরের ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, মেটার প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ‘মাস্ক এআই’ (MaskAI) নামক একটি অ্যাপের সাথে সংযুক্ত ছিল, যা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যেত। বিষয়টি জানার পর অ্যাপল ওই অ্যাপটি তাদের স্টোর থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির বিজ্ঞাপনের তথ্য উঠে এসেছিল। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি মেটার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকরতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।