মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে বুধবার আয়োজিত এক জরুরি সভায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ফুটবল প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাবের জেরে সৃষ্ট তীব্র সমালোচনার মুখে এই পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে সভায় সিনিয়র নির্বাহীদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করছেন না।
ফিফার এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি ‘শ্যাবি’ বা অস্পষ্ট এবং অস্বচ্ছ বলে অভিহিত করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা আগেই তার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিল। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোমসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টির সমালোচনা করেছিলেন। তবে বৈঠকের পর গ্রাফস্ট্রোম ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ইনফান্তিনোর ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠিয়ে ফিফার সদস্য দেশগুলোর কাছে তাদের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্য দেশগুলোকে অন্ধকারে রাখার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এই প্রক্রিয়ায় ভুল হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছে।
এদিকে ২০২৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছর বিভিন্ন বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইনফান্তিনোর ওপর এবার চাপের মুখে রয়েছেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। যদিও ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে তিনি চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।
ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদিও কিছু ভুল হয়েছে, তবুও সংস্থার সমস্ত কার্যক্রম নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। বর্তমানে ফিফা তার মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর বলে সংস্থার বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।