যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচি ‘হেড স্টার্ট’ ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিবার সহায়তা বিষয়ক সহকারী সচিব অ্যালেক্স অ্যাডামস জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ফেডারেল মানদণ্ড কমিয়ে রাজ্য ও অভিভাবকদের হাতে কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ শিশু এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালেক্স অ্যাডামস বলেন, সারাদেশে ১৬০০টি হেড স্টার্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে চাপিয়ে দেওয়া অভিন্ন নিয়মকানুন সব ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। মূলত প্রশাসনিক ব্যয় ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে আসাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। এতে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করছে সরকার, যা নতুন করে ২ লাখ শিশুর ভর্তির সুযোগ তৈরিতে ব্যয় করা হবে।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের আওতায় ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং পরিবহন ব্যবস্থার মতো মানদণ্ডগুলো নির্ধারণের দায়িত্ব রাজ্যগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া পাঠ্যক্রম এবং কাঠামো তৈরিতে অভিভাবকদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ফ্যামিলি চাইল্ড কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক এরিকা ফিলিপস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী শিক্ষার মানের তারতম্য তৈরি হতে পারে। হেড স্টার্টের এতদিনকার যে অভিন্ন মানদণ্ড ছিল, তা হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
এদিকে স্টার্ট আর্লির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভেট সানচেজ ফুয়েন্তেস জানান, প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর প্রভাব সরাসরি শিশুদের ওপর পড়তে পারে। অনেক সময় এই অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়। সরকারি এই প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৬০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকর হতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।