ঢাকাThursday , 6 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

বিদেশি গণমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলো পাকিস্তান


August 6, 2026 10:30 pm
Link Copied!

পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই তিন শহরের বাইরে কোনো সংবাদ সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তানে কর্মরত সব আন্তর্জাতিক সাংবাদিক—স্থায়ী কিংবা ফ্রিল্যান্স—সবারই সরকারের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ে নিবন্ধন থাকা জরুরি। এছাড়া তিন প্রধান শহরের বাইরে কোনো প্রতিবেদন তৈরির জন্য সরকারের কাছ থেকে নন-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে। যদিও এই নির্দেশনা না মানলে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকার স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের এই ‘বিদেশি গণমাধ্যম সহায়তা নির্দেশিকা ২০২৬’ সাংবাদিকতার পথ সহজ করার বদলে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। তাদের মতে, পাকিস্তানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত ঘটনা এই তিন শহরের বাইরে ঘটে। নতুন এ নিয়ম কার্যকর হলে জনগণের তথ্য জানার অধিকার ব্যাপকভাবে সংকুচিত হবে।

রিপোর্টার্স উইদার্ড বর্ডার্সের তথ্যমতে, বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। এর আগেও এনওসি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগে যেত, যার ফলে জরুরি সংবাদ সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। নতুন বিধিনিষেধের আওতায় এখন থেকে স্থানীয় সাংবাদিকরাও যারা বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য কাজ করেন, তাদেরও এনওসি নিতে হবে।

কাশ্মীর ইস্যু ও বিতর্ক
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও নির্বাচন নিয়ে সংবাদ প্রচারের পরই মূলত সরকারের পক্ষ থেকে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-জাজিরার প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ইয়েলো জার্নালিজম’ বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনেছিল। তবে এই পরিস্থিতির সাথে নতুন নির্দেশিকার কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।