যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিমানবাহিনী টার্বোজেট চালিত জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন বা জেডিএএম-এর দীর্ঘ পাল্লার সংস্করণ উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে। বোয়িং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নতুন একটি দীর্ঘ পাল্লার লক্ষ্যভেদী সক্ষমতা যোগ করবে। এই উৎপাদন চুক্তিটি ৭৫ মিলিয়ন ডলারের এবং এর মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনী প্রথম ধাপে এই ক্ষেপণাস্ত্রের কিটগুলো গ্রহণ করবে।
জেডিএএম মূলত একটি প্রচলিত সাধারণ বোমা রূপান্তর কিট, যা দিয়ে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে এটি প্রথম যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সাধারণ জেডিএএম-এর পাল্লা ছিল মাত্র ১২ মাইলের মতো।
নতুন এই ইঞ্জিন-চালিত জেডিএএম-এর সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। বোয়িংয়ের ভাষ্যমতে, ৫০০ পাউন্ড ওজনের পেলোড বহনকারী এই অস্ত্রটি ৩৪০ মাইলেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আগে জেডিএএম-এর বর্ধিত পাল্লার সংস্করণগুলো গ্লাইড বোমা হিসেবে কাজ করত, যার সর্বোচ্চ পাল্লা ছিল ৪৫ মাইলের মতো।
বোয়িংয়ের প্রিসিশন এনগেজমেন্ট সিস্টেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট বব সিএসলা এই চুক্তিকে দীর্ঘ পাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। কোম্পানিটি এই অস্ত্র তৈরিতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার নিজস্ব বিনিয়োগ করেছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল দূর থেকেও অস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
পেন্টাগন বর্তমানে ব্যয়বহুল অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী ও কার্যকর অস্ত্রের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক গুদামে থাকা নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুত কমে আসায় এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জেডিএএম এলআর বা দীর্ঘ পাল্লার এই সংস্করণটি এফ-১৫, বি-৫২ বোমারু বিমান এবং এমকিউ-৯এ রিপার ড্রোনের মতো বিদ্যমান যেকোনো যুদ্ধবিমানের সঙ্গে দ্রুত সংযুক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বোয়িং।