যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগল আগামী ১২ আগস্ট তাদের নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজের স্মার্টফোনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এবারের পিক্সেল সিরিজের ফোনের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর দামের কাছাকাছি। হার্ডওয়্যারের লড়াইয়ে স্যামসাং এগিয়ে থাকলেও, গুগলের নতুন ফোনের প্রকৃত মূল্যায়ণ নির্ভর করবে তাদের অনন্য সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সুবিধার ওপর।
দাম ও হার্ডওয়্যারের নতুন সমীকরণ
গুগল তাদের নতুন পিক্সেল ১১, প্রো, প্রো এক্সএল এবং প্রো ফোল্ড মডেলের দাম বাড়িয়ে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের সমপর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও দাম বাড়ছে, তবে গুগল এবার স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। স্যামসাং যেখানে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর এবং উচ্চমানের ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে গুরুত্ব দেয়, সেখানে গুগল তাদের নিজস্ব টেনসর জি৬ প্রসেসরের মাধ্যমে কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি এবং এআই ফিচারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
সফটওয়্যারই আসল পার্থক্য
গুগলের স্মার্টফোনগুলোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর বিশুদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট। পিক্সেল ড্রপস ফিচারের মাধ্যমে গুগল তাদের ব্যবহারকারীদের নিয়মিত নতুন নতুন সুবিধা প্রদান করে, যা স্যামসাংয়ের ফোনে পাওয়া যায় না। এছাড়া জেমিনি এআই এবং গুগলের নিজস্ব সেবাগুলোর গভীর সংহতি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পিক্সেলকে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তবে হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের ওয়ান ইউআই এবং উন্নত নকশা এখনো অনেক গ্রাহকের প্রথম পছন্দ।
বাজারের ভবিষ্যৎ
আগামী ১২ আগস্ট ‘মেড বাই গুগল’ ইভেন্টের মাধ্যমে নতুন ফোনগুলোর বিস্তারিত জানা যাবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্যামসাং ও পিক্সেলের দামের পার্থক্য কমে আসায় এখন গ্রাহকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বনাম সফটওয়্যার—এই দুটি বিষয়ের ওপরই মূল নির্ভরতা থাকবে। দীর্ঘদিনের স্যামসাং ব্যবহারকারীরা খুব সহজে ব্র্যান্ড পরিবর্তন না করলেও, নতুন ক্রেতাদের ক্ষেত্রে গুগলের এআই সক্ষমতা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।