মহাকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকার পর স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের উপরের অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করেছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের প্ল্যানেটারি সায়েন্টিস্ট কার্ল শ্মিট সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, চিলির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে চাঁদে সোডিয়াম ও লিথিয়াম গ্যাসের একটি মেঘ দেখা গেছে, যা মূলত রকেটটির সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। রকেটটি ৫ আগস্ট চাঁদে আছড়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ৬০ ফুট চওড়া ও ১২ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি হতে পারে বলে নাসা ধারণা করছে। রকেটটি ঘণ্টায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদে আঘাত করেছে। তবে চাঁদের যে অংশে এটি পড়েছে, সেখানে সূর্যের আলো থাকায় পেশাদার বা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পক্ষে সরাসরি সংঘর্ষটি দেখা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে নাসার লুনার রিকনসায়েন্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাথফাইন্ডার লুনার অরবিটার দুর্ঘটনাস্থলের ছবি তোলার চেষ্টা করছে। তবে আলো ও সময়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ছবি পেতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই রকেটের অংশটি ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ‘ব্লু ঘোস্ট’ মিশনের সময় মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। স্পেসএক্স জানিয়েছে, উচ্চ শক্তির মিশনের ক্ষেত্রে রকেটের সবটুকু জ্বালানি পেলোড স্থাপনে ব্যয় হয়ে যায়, যার ফলে রকেটকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা অনেক সময় সম্ভব হয় না। সৌরশক্তি ও মহাকর্ষের প্রভাবে রকেটটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়। মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, নাসা এই পদ্ধতিকে মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে একটি কারিগরিভাবে স্বীকৃত ও নিরাপদ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।