যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে বহুদূরে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ এবং নিষ্ক্রিয় ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এটি প্রথম কোনো ব্ল্যাক হোল যা তার গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। ব্ল্যাক হোলটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকায় এতদিন অদৃশ্য ছিল, তবে একটি নক্ষত্রকে ধ্বংস করার সময় এর শক্তিশালী আলোর ঝলকানি থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস-এ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক সুভি গেজারি বলেন, সাধারণ ধারণা অনুযায়ী সুবৃহৎ ব্ল্যাক হোলগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রেই অবস্থান করে। এই আবিষ্কারটি নতুন এবং এটি ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর মাধ্যমে গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং ব্ল্যাক হোলের মিলন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের কথা বলে আসছিলেন, যা গ্যালাক্সির সংঘর্ষের সময় কেন্দ্রের বাইরে ছিটকে যেতে পারে। এদেরকে ‘ওয়ান্ডারিং’ বা ভ্রাম্যমাণ ব্ল্যাক হোল বলা হয়। এই ব্ল্যাক হোলগুলো নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। তবে নতুন এই গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নক্ষত্র ধ্বংসের সময় তৈরি হওয়া আলোর নির্দিষ্ট ধরন শনাক্ত করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পালোমার অবজারভেটরির জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফ্যাসিলিটি (জেডটিএফ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এআই সিস্টেমটি নক্ষত্র ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া বা ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’ শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই ব্ল্যাক হোলটি কেন গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে এত দূরে অবস্থান করছে, তা নিয়ে গবেষকরা দুটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। প্রথমত, গ্যালাক্সির সংঘর্ষের ফলে ছোট কোনো গ্যালাক্সি থেকে এটি এখানে চলে আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, তিনটি ব্ল্যাক হোলের মধ্যে জটিল কোনো মহাজাগতিক মিথস্ক্রিয়ার কারণে এটি কেন্দ্র থেকে বাইরে নিক্ষিপ্ত হতে পারে।
ভবিষ্যতে চিলির ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরিসহ অন্যান্য শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা আরও শত শত ভ্রাম্যমাণ ব্ল্যাক হোল খুঁজে পাওয়ার আশা করছেন। এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।