যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত গুগলের গবেষক দল ডিপমাইন্ড তাদের নতুন এআই মডেল ‘ওয়েদারনেক্সট’-এর কার্যকারিতা উন্মোচন করেছে, যা হারিকেনের গতিপথ ও তীব্রতার পূর্বাভাস অন্যান্য মডেলের তুলনায় অনেক আগে দিতে সক্ষম। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি আবহাওয়া পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি দুর্যোগের আগে মানুষকে সতর্ক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি সময় এনে দিতে পারে।
হারিকেনের পূর্বাভাসে দক্ষতা
২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্যারিবিয়ান সাগরে তৈরি হওয়া হারিকেন মেলিসার ক্ষেত্রে এই মডেলটি তার কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছে। ল্যান্ডফলের পাঁচ দিন আগেই এটি ৮০ শতাংশ আস্থাসহ পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, ঝড়ের গতিপথ জ্যামাইকার দিকে এবং এটি ক্যাটাগরি ৫ মাত্রায় আঘাত হানবে। বাস্তবেও তাই ঘটেছিল, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। সাধারণ আবহাওয়া মডেলগুলো যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, সেখানে এই এআই মডেল গড়ে একদিন আগে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও রহস্য
গবেষকরা জানিয়েছেন, হারিকেনের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনার জন্য পর্যাপ্ত ডাটা পাওয়া কঠিন। তবুও ওয়েদারনেক্সট মডেলটি সাধারণ আবহাওয়ার তথ্যের সাথে সাইক্লোনের ডাটা সমন্বয় করে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, প্রচলিত মডেলের তুলনায় অনেক কম রেজোলিউশনের ডাটা ব্যবহার করেও এই এআই কীভাবে এত নির্ভুল পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য। গবেষক ফেরান আলেতের মতে, এটি অনেকটা ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর মতো কাজ করে, যা আবহাওয়াবিদদের নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
প্রস্তুতি ও সতর্কতা
এই এআই মডেলটি একটি মাত্র পূর্বাভাসের বদলে হাজারো সম্ভাব্য পরিস্থিতির সিনারিও তৈরি করতে পারে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পরিচালক মাইক ব্রেনান মনে করেন, এটি একটি টুল মাত্র। তিনি জানান, হারিকেনের প্রভাব মানুষের জীবনের ওপর কতটা পড়বে, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা এখনো অপরিহার্য।
ভবিষ্যৎ কার্যক্রম
গবেষণার অংশ হিসেবে গুগলের ডিপমাইন্ড ওয়েদারনেক্সট মডেলটিকে ওপেন-সোর্স করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে সারা বিশ্বের গবেষকরা মডেলটিকে আরও উন্নত করার সুযোগ পাবেন। গবেষকদের বিশ্বাস, এআই-এর এই নতুন সরঞ্জামটি প্রকৃতির নিয়ম ও সাইক্লোনের আচরণ সম্পর্কে আরও গভীরে জানার পথ খুলে দেবে।