জার্মানির পটসডামে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব কলয়েডস অ্যান্ড ইন্টারফেসের গবেষকরা জানিয়েছেন, শামুক প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের দেহের লালা বা মিউকাসের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, শামুক তাদের লালার উপাদান বা প্রোটিন ও আয়নের অনুপাত পরিবর্তন করে পাঁচটি ভিন্ন ধরনের মিউকাস তৈরি করতে পারে, যার প্রতিটির কার্যকারিতা আলাদা।
গবেষক মারিয়েলা গ্যাবলার জানান, শামুকের এই মিউকাস তৈরিতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ঘনত্বের ভূমিকা রয়েছে। প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়লে লালা আরও বেশি আঠালো ও শক্ত হয়। অন্যদিকে, চলাচলের জন্য তারা পিচ্ছিল এক ধরনের লালা ব্যবহার করে, যা ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
শামুক আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ফেনাযুক্ত লালা নিঃসরণ করে ছোট পোকামাকড় দূর করে, আবার কখনও শত্রুকে আটকে রাখতে শক্তিশালী আঠালো আঠা তৈরি করে। এছাড়া শীতকালে হাইবারনেশনের সময় তারা শক্ত ও সুরক্ষামূলক আবরণের জন্য বিশেষ মিউকাস ব্যবহার করে, যাতে ক্যালসাইট স্ফটিক থাকে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। গবেষকদের মতে, শামুকের লালার এই বৈচিত্র্যময় কার্যকারিতা থেকে ধারণা নিয়ে ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থান সেলাই করার উন্নত আঠা বা শরীরের ভেতরে ওষুধ সরবরাহের বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বস্তুবিজ্ঞানী কৌশিক মুখোপাধ্যায় এই গবেষণাকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, ক্যাথেটারের ঘর্ষণ কমাতে বা প্রসাধনী শিল্পে শামুকের লালার গঠন অনুকরণ করে নতুন বস্তু তৈরির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির এই অনন্য কৌশল মানবসৃষ্ট প্রযুক্তির চেয়েও অনেক বেশি উন্নত বলে তিনি মন্তব্য করেন।