যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা অ্যাজমা ও সিওপিডি (COPD)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি রোগের লক্ষণ অনেকটা একই রকম হলেও তাদের কারণ ও চিকিৎসার পদ্ধতি ভিন্ন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সঠিকভাবে রোগ শনাক্ত করতে না পারলে যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয় না।
অ্যাজমা ও সিওপিডি-র পার্থক্য
অ্যাজমা সাধারণত ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা, যা ছোট বয়স থেকেই দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সিওপিডি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান বা দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে আসার ফলে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সিওপিডির ক্ষেত্রে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্থায়ী হয়, যা অ্যাজমার তুলনায় আলাদা।
লক্ষণসমূহ
উভয় রোগের ক্ষেত্রেই শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং বুক ধড়ফড় করার মতো সাধারণ কিছু লক্ষণ থাকে। তবে অ্যাজমার ক্ষেত্রে রোগী সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো অ্যালার্জেন বা উদ্দীপকের সংস্পর্শে এলে তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। সিওপিডির ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সময়ের সাথে এটি নিয়মিত শারীরিক সমস্যায় রূপ নেয়।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসকরা সাধারণত স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের কার্যকারিতা যাচাই করে এই দুই রোগের পার্থক্য নিশ্চিত করেন। অ্যাজমার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ইনহেলার ব্যবহার করা। অন্যদিকে সিওপিডির ক্ষেত্রে ফুসফুসকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ধূমপান বর্জন এবং অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।