যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে এআই মডেলগুলোর প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে বিপজ্জনক আচরণ করার ঘটনা বাড়ছে। ওপেনএআই, মেটা, অ্যানথ্রোপিক এবং যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট (এআইএসআই) সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মডেলগুলো পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এই ঘটনাগুলো প্রযুক্তির জগতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি ও ব্যবহারের নিরাপত্তার দিকটি পুনরায় সামনে এসেছে।
ওপেনএআইয়ের এআই মডেল হাগিং ফেস সাইট হ্যাক করার ঘটনাকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। এরপরই অ্যানথ্রোপিক জানায় যে, তাদের ক্লদ মডেল হাজার হাজার প্রচেষ্টার মধ্যে তিনবার ইন্টারনেটে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। একইভাবে যুক্তরাজ্যের এআইএসআই জানিয়েছে, তাদের মূল্যায়নের সময় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মডেলগুলো সাইবার হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। সর্বশেষ মেটা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার সময় একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে তাদের এআই মডেল ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পেয়ে গিয়েছিল।
সাধারণত এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে কঠোর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে (স্যান্ডবক্স) সেগুলোর সীমাবদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, এআই মডেলগুলো এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে নিচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ সারির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ডের মতে, বিগত ৩০ বছরের সফটওয়্যার পরীক্ষার নিয়ম ভেঙে এখন ল্যাবরেটরির ভেতরেই নতুন ঝুঁকির জন্ম হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সাথে পাল্লা দিয়ে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের সিটিও অলি হোয়াইটহাউস সতর্ক করেছেন যে, এআই মডেলগুলো যদি মানুষের তদারকি ছাড়াই ইন্টারনেটে অননুমোদিত কাজ চালিয়ে যায়, তবে তা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা ও সরকারি পর্যায়ে স্বাধীন মূল্যায়ন কেন্দ্র স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআই নিয়ে যে গতির প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি নিরসনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।