যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল তাদের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপের মুখে রেখে কম দামে যন্ত্রাংশ পাওয়ার জন্য পরিচিত। তবে এবার মেমোরি চিপ বা র্যামের বিশ্বব্যাপী সংকটের মুখে কোম্পানিটির সেই কৌশল আর কাজ করছে না। চীনের মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএক্সএমটি (CXMT)-এর কাছ থেকে কম দামে চিপ কেনার প্রস্তাব দিলেও অ্যাপল প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
সিএক্সএমটি উল্টো স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্সের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি দাম চেয়েছে। হুয়াওয়ে এবং শাওমির মতো চীনা কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে সিএক্সএমটির উৎপাদিত চিপের একটি বড় অংশ আগেই নিজেদের দখলে নিয়েছে। ফলে অ্যাপলের শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই চীনা প্রতিষ্ঠানটির।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে মেমোরি চিপের বাজারে যে সংকট চলছে, তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও। অতীতে যে র্যামের দাম ছিল ১৬ ডলারের মতো, তা এখন ৮৪ ডলারে কিনতে হচ্ছে। অ্যাপলও এখন উচ্চমূল্যে যন্ত্রাংশ কিনতে বাধ্য হচ্ছে এবং সেই ব্যয় তারা ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আসন্ন আইফোন ১৮ প্রো মডেলেও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি
ট্রেন্ডফোর্স ও কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সাধারণ ডিআরএএম (DRAM)-এর চুক্তিমূল্য ৯৩ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন মেমোরি চিপ তৈরিতে নির্মাতারা বেশি আগ্রহী হওয়ায় সাধারণ মানের চিপের বাজারে সরবরাহের সংকট তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
অ্যাপল মার্কিন সরকারের কাছে সিএক্সএমটি এবং ওয়াইএমটিসি থেকে ডিআরএএম ও ন্যান্ড স্টোরেজ কেনার অনুমতি চেয়েছে। অনুমতি পেলেও খুব একটা স্বস্তি মিলবে না, কারণ সিএক্সএমটি অ্যাপলকে বিশেষ ছাড় দিতে আগ্রহী নয়। এছাড়া মাইক্রনসহ অন্যান্য বড় কোম্পানিগুলো মেমোরি সংকটকে একটি ব্যবসায়িক চক্র হিসেবে দেখছে এবং তারা এআই প্রযুক্তির দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বাজারে নতুন প্রতিযোগী এলেও উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়লে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না বাজার বিশ্লেষকরা।