ঢাকাSunday , 13 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশের নতুন ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জন ড্যানিলোভিচের

ডেস্ক নিউজ
July 8, 2026 2:39 pm
Link Copied!

২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের অর্থনৈতিক করিডোর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বর্তমানে এক জটিল ও কৌশলগত কূটনীতি পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকার সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনীতি, ভারতের সঙ্গে আইনি জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ অত্যন্ত সতর্ক ও দক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে এগোচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে ড্যানিলোভিচ জানান, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশ ইতিহাস ও ভূগোলের সূত্রে আবদ্ধ হলেও ঢাকার বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করেছে।

এই বিষয়ে জন এফ ড্যানিলোভিচ বলেন,
“বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ। শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের ভারতে অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। দুই দেশের সরকারই জনগণের এই জনমতকে উপেক্ষা করতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ভারতীয় জনমতকে প্রভাবিত করেছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ড্যানিলোভিচ মনে করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চীন বাংলাদেশের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বিনিয়োগের উৎস।

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর ও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ যদি চতুর ও দক্ষ কূটনীতির পরিচয় দিতে পারে, তবে চীনের সাথে এই অর্থনৈতিক যোগাযোগ ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বিরোধের কারণ হবে না।”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ড্যানিলোভিচ জানান, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে এককভাবে সামলানো বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব। তিনি বলেন, এই করিডোর নিয়ে সমালোচনার অনেকটুকুই ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের দিকে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশের এই বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি কিছু অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন:

• আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।
• জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া।
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু।

২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর ওয়াশিংটন ঢাকাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান। ড্যানিলোভিচ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম