ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রাসেলসে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোকে পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমানোর পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। সাধারণত ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে যাতে তা পুনব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন
বর্তমানে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাটারি পরিবর্তনের সুবিধা কমিয়ে দিয়েছে। পাতলা ডিজাইন, প্রিমিয়াম গ্লাস বডি এবং ওয়াটারপ্রুফ সুবিধার জন্য ব্যাটারি এখন ডিভাইসের ভেতরে স্থায়ীভাবে সিল করা থাকে। স্যামসাং গ্যালাক্সি এক্সকভার ৭ প্রো বা ফেয়ারফোন ৬-এর মতো হাতেগোনা কিছু মডেলে ব্যাটারি খোলার সুবিধা থাকলেও বাজারে এগুলো সাধারণ ধারার বাইরে। কোম্পানিগুলোর দাবি, স্ক্রু বা ক্লিপ ব্যবহারের চেয়ে আঠা দিয়ে বডি আটকে রাখা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও টেকসই।
প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও নতুন আইন
নতুন আইন অনুযায়ী, স্মার্টফোনের ব্যাটারি সাধারণ টুলস বা স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে খোলা সম্ভব হতে হবে। তবে এখানে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনো ডিভাইসের ব্যাটারি ১০০০ সাইকেল চার্জের পরেও ৮০ শতাংশ সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে এবং সেটি আইপি৬৭ রেটিং প্রাপ্ত হয়, তবে কোম্পানিগুলো চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ দিতে পারবে। এর ফলে অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলো তাদের প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলোর ডিজাইন আমূল পরিবর্তন না করেই আইনি শর্ত পূরণ করতে পারবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই আইন বিশ্ববাজারের জন্য নতুন মানদণ্ড হতে যাচ্ছে। অতীতে টাইপ-সি চার্জিং পোর্টের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ইউরোপের আইন মেনে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন নির্মাতারা একই ডিজাইন অনুসরণ করেছে। ফলে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে এমন স্মার্টফোন আসতে চলেছে, যার ব্যাটারি ব্যবহারকারী নিজেই সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন। এটি কেবল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার কৌশলেই পরিবর্তন আনবে না, বরং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে।