বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ কেন স্বৈরাচারী শাসকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক হাসান ফেরদৌস। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের অভাব ছিল, আর সেই দীর্ঘ সময়জুড়ে বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ বিভিন্ন অজুহাতে স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নিয়েছে।
হাসান ফেরদৌসের মতে, বুদ্ধিজীবীর প্রধান কাজ ক্ষমতার সঙ্গে সখ্যতা করা নয়, বরং ক্ষমতার কেন্দ্রে অনবরত আঘাত করা। কিন্তু তিনি লক্ষ করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীরা ধর্মের নামে, ভারতবিরোধিতার নামে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে স্বৈরাচারের পক্ষে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন।
লেখক উদাহরণ হিসেবে সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের কথা উল্লেখ করেন, যিনি ১৯৭১ সালে গণহত্যার পরও পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। একইভাবে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সংরক্ষণের যুক্তিতে স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, যখন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা প্রাণ হারাচ্ছিল, তখনও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। লেখক একে স্বৈরাচারের লেজুড়বৃত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আন্তোনিও গ্রামসি ও জর্জ অরওয়েলের তত্ত্বের উদ্ধৃতি দিয়ে হাসান ফেরদৌস ব্যাখ্যা করেন যে, রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার ও ‘সম্মতি নির্মাণ’ (ম্যানুফাকচারিং কনসেন্ট)-এর মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীরা স্বৈরাচারকে অপরিহার্য প্রমাণ করেন। তাঁর মতে, স্তালিন, হিটলার বা হাসিনার মতো শাসকদের টিকিয়ে রাখার জন্য এই বুদ্ধিজীবীরা জ্বালানির মতো কাজ করেছেন, যা তাঁদের পেশাগত ও নৈতিক সততার বড় ব্যর্থতা।