যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়াই-ফাই ৭ প্রযুক্তির ব্যবহার এক বছরের ব্যবধানে চার গুণ বেড়েছে বলে ওকলা-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) গ্রাহকদের নতুন প্রজন্মের এই রাউটার সরবরাহ করায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ স্টিভেন ভন-নিকোলসের মতে, ওয়াই-ফাই ৭-এর এই দ্রুত বিস্তার ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াই-ফাই ৭ রাউটারের ব্যবহার ছিল ১.৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.২ শতাংশে। অথচ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১ শতাংশেরও কম।
মূলত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্রডব্যান্ড প্যাকেজের সঙ্গে ওয়াই-ফাই ৭ গেটওয়ে যুক্ত করায় এই পরিবর্তন এসেছে। ওকলা-এর তথ্যানুযায়ী, স্পেকট্রাম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়াই-ফাই ৭ নেটওয়ার্ক হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া এক্সফিনিটি, সেঞ্চুরিলিংক এবং ফ্রন্টিয়ারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নেটওয়ার্কে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ওয়াই-ফাই ৭ প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ব্যবহার। ওকলা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ গিগাহার্টজ ওয়াই-ফাই ব্যবহারের হার বছরে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা উচ্চ গতি, কম ল্যাটেন্সি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে অ্যাপলের আইফোন ১৬ সিরিজের পরবর্তী মডেলগুলো, গুগল পিক্সেল ৮ সিরিজ এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৩ আল্ট্রা বা তার পরের মডেলগুলোতে ওয়াই-ফাই ৭ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া উচ্চমানের উইন্ডোজ ল্যাপটপ এবং নতুন ম্যাকবুকগুলোতেও এই প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ৯০ শতাংশের বেশি ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী ওয়াই-ফাই ৬ বা তার আগের প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তবে ওয়াই-ফাই ৭-এর এই ক্রমবর্ধমান গতি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি দ্রুতই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ডিফল্ট পছন্দ হয়ে উঠছে। যারা ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি পেতে আগ্রহী, তাদের জন্য এখন এটি ব্যবহারের উপযুক্ত সময়।