ব্রাজিলের মারানহাও অঙ্গরাজ্যের ডেভিনোপোলিস শহরে একটি নির্মাণাধীন রেল টার্মিনালের নিচে ১২ কোটি বছর পুরনো একটি নতুন প্রজাতির বিশাল ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। ‘ডাসোসরাস টোকানটিনেনসিস’ (Dasosaurus tocantinensis) নামে পরিচিত এই ডাইনোসরটি প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জার্নাল অফ সিস্টেমেটিক প্যালিওন্টোলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় এই আবিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দক্ষিণ আমেরিকা এবং ইউরোপের মধ্যে প্রাচীন বিবর্তনীয় সম্পর্কের নতুন তথ্য সামনে এনেছে। গবেষকদের মতে, এই ডাইনোসরের নিকটতম আত্মীয়ের জীবাশ্ম স্পেনে পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে যে, ডাইনোসরের এই বংশধররা প্রাচীন গন্ডোয়ানা সুপারকন্টিনেন্টের মাধ্যমে আফ্রিকা ও উত্তর ইউরোপ হয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
মারানহাও ফেডারেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এলভার লুইজ মায়ার বলেন, এই অঞ্চলের জন্য এটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বৃহত্তম ডাইনোসর। এর আগে এই অঞ্চলে মাত্র ১০ মিটার দীর্ঘ ডাইনোসরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। ২০২১ সালে রেল টার্মিনাল নির্মাণের সময় প্রত্নতাত্ত্বিকরা দুর্ঘটনাবশত এই জীবাশ্ম খুঁজে পান। শুরুতে এগুলোকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহাবশেষ মনে করা হলেও পরবর্তীতে গবেষণায় এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ মেলে।
জীবাশ্মটির সংগৃহীত অংশের মধ্যে রয়েছে লেজের কশেরুকা, দেড় মিটার লম্বা ফিমার বা উরুর হাড়, পাঁজরের হাড় এবং পায়ের হাড়। ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলোর অধ্যাপক ম্যাক্স ল্যাঙ্গার জানান, এটি একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম। একই স্থানে আরও জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ডাইনোসরটির নামকরণ করা হয়েছে এই অঞ্চলের অরণ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং টোকানটিনস নদীর নিকটবর্তী অবস্থানের সম্মানে। নির্মাণাধীন প্রকল্পের খননকাজ থেকে পাওয়া এই জীবাশ্মটি ব্রাজিলের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থা ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বর্তমানে জীবাশ্মটি সাও লুইসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি অ্যান্ড আর্কিওলজি রিসার্চ সেন্টারে সংরক্ষিত আছে।