যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসনে অবস্থিত এনএসএফ এনওআইআরল্যাব (NSF NOIRLab) মহাবিশ্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিস্তারিত টু-ডি মানচিত্র উন্মোচন করেছে। ডেটা রিলিজ ১১ বা ডিআর-১১ (DR11) নামের এই মানচিত্রটি তৈরির পেছনে লরেন্স বার্কলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার অবদান রয়েছে। মহাবিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মানচিত্রটি গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
মানচিত্রটির বিস্তারিত তথ্য
ডিআর-১১ মানচিত্রটি ৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন পিক্সেলের সমন্বয়ে গঠিত। প্রায় ১৬০ জন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ২৬৩,৪০৭টি গ্রাউন্ড-বেজড এক্সপোজারের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪ বিলিয়ন মহাজাগতিক বস্তু—যেমন নক্ষত্র, ছায়াপথ, কৃষ্ণগহ্বর এবং গ্রহাণুর তালিকা রয়েছে। মানচিত্রটি দৃশ্যমান ও নিকট-ইনফ্রারেড আলোকতরঙ্গ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মানচিত্রটির সহ-প্রধান ডেভিড শ্লেগেল জানান, এটি ইতিমধ্যে ১,৮০০টিরও বেশি গবেষণা পত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি মহাবিশ্বের থ্রি-ডি মানচিত্র তৈরির ভিত্তি হিসেবেও কাজ করেছে। মহাকাশের বিশাল বিস্তৃতিতে কোটি কোটি বস্তু এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষ এই মানচিত্রের মাধ্যমে খুঁজে দেখার সুযোগ পাবেন।
ব্যবহার পদ্ধতি
এই মানচিত্রটি অনলাইনে ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু টুল রয়েছে। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট মহাজাগতিক বস্তুর নাম লিখে সহজেই তা খুঁজে পেতে পারেন। মানচিত্রের জুম, কন্ট্রাস্ট এবং ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন ছায়াপথ বা নক্ষত্র স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মানচিত্রের কিছু অংশে ধুলিকণা, কৃষ্ণগহ্বর বা উজ্জ্বল নক্ষত্রের কারণে অন্ধকার অঞ্চল দেখা যেতে পারে, যা মহাকাশ পর্যবেক্ষণের প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা।
গবেষকদের পরামর্শ
শ্লেগেল আরও জানান, ব্যবহারকারীরা মানচিত্রের ওভারলে অপশন ব্যবহার করে নক্ষত্রপুঞ্জ বা উজ্জ্বল বস্তুগুলো সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন। মহাকাশ সম্পর্কে আরও বেশি জানার জন্য এনওআইআরল্যাবের নিজস্ব এফএকিউ (FAQ) পেজ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।