যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল ফিফার বিশ্বকাপ ফুটবলে সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব কেনার পরিকল্পনা নিয়েছিল, যা ব্যাপক বিরোধিতার মুখে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। এই ঘটনাটি খেলাধুলা এবং বাণিজ্যের মধ্যে বিদ্যমান জটিল সম্পর্কের নতুন সমীকরণ সামনে এনেছে। ফুটবলের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক আবেদন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে হারিয়ে যাবে না—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করেই বিনিয়োগকারীরা এই বড় ধরণের ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েছিল।
প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের মূল কৌশল হলো এমন সব ক্ষেত্রে অর্থায়ন করা, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অংশগ্রহণ বা আবেগ প্রতিস্থাপন করতে পারে না। সিনেমা বা সংগীতের মতো বিনোদন মাধ্যমের তুলনায় ফুটবল মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। থ্রাইভ ইটার্নাল মনে করে, এআই বিপ্লবের যুগেও এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন জোশুয়া কুশনারের নেতৃত্বাধীন থ্রাইভ ইটার্নাল। তারা দাবি করেছিল, এই অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদী এবং এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশাল অংকের অর্থ পেতে পারত। ফিফা এই প্রকল্পের মাধ্যমে খেলার শাসন পরিচালনার সাথে ব্যবসায়িক দিকটি আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
তবে ক্রীড়া অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফা বর্তমানে আর্থিক সংকটে নেই। তবুও বিশ্বব্যাপী ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ এবং আমেরিকার বড় বড় প্রতিষ্ঠানের এই বিনিয়োগে আগ্রহ প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা এখন ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালির রাডারে রয়েছে। ফিফা আপাতত এই পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও, ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মূলধন বা প্রাইভেট ইক্যুইটির বিনিয়োগ প্রবাহ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।