জার্মানির রুর ইউনিভার্সিটি বোখামের গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসোল মানুষের মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে ফেলতে পারে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ড. ওসমান আকান জানান, কর্টিসোল মস্তিষ্কের গ্রিড সেলগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা মানুষের স্থানিক দিকনির্ণয় বা চলাচলের পথ ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
গবেষণাটিতে ৪০ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এমআরআই স্ক্যানারের ভেতরে ভার্চুয়াল পরিবেশে তাদের পথ চলার একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে এক দলকে ২০ মিলিগ্রাম কর্টিসোল দেওয়া হয় এবং অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। পরীক্ষায় দেখা যায়, কর্টিসোল সেবনকারী ব্যক্তিরা গন্তব্য খুঁজে বের করতে গিয়ে বারবার ভুল করছেন এবং তাদের মস্তিষ্কের গ্রিড সেলের কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।
সাধারণ অবস্থায় মানুষ কোনো স্থানে চলাচলের সময় মস্তিষ্কের এন্টোরাইনাল কর্টেক্সে এক ধরনের গ্রিড বা ছক তৈরি হয়, যা জিপিএসের মতো কাজ করে। কর্টিসোল এই গ্রিড বিন্যাসকে এলোমেলো করে দেয়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, যখনই মস্তিষ্কের প্রধান দিকনির্ণয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়, তখন অন্য একটি অংশ কোডেট নিউক্লিয়াস বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এতে দিকনির্ণয়ের নির্ভুলতা কমে যায়।
এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ আলঝেইমার্স রোগের ক্ষেত্রে এন্টোরাইনাল কর্টেক্স সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং এই হরমোন কীভাবে মস্তিষ্কের সংবেদনশীল অংশকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।