পৃথিবীর বিভিন্ন খনিতে পাওয়া হীরা মূলত কার্বন দিয়ে গঠিত এক অনন্য খনিজ। প্রকৃতিতে সাধারণভাবে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল হীরার পাশাপাশি নীল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি ও লাল রঙের হীরা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একই উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও হীরার এই ভিন্নতার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করে।
অন্য উপাদানের উপস্থিতি
হীরা গঠনের সময় কার্বনের সাথে অন্য কোনো উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটলে তার রঙ পরিবর্তন হতে পারে। নাইট্রোজেনের উপস্থিতির কারণে হীরা হলুদ বা বাদামি রঙের হয়। এছাড়া বোরনের মিশ্রণে হীরা নীল আভা ধারণ করে। আবার দীর্ঘদিন প্রাকৃতিক বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে হীরা সবুজ রঙ লাভ করে।
স্ফটিক কাঠামোর বিকৃতি
উপাদান ছাড়াও হীরার অভ্যন্তরীণ স্ফটিক কাঠামোর পরিবর্তন এর রঙ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে যখন হীরার স্ফটিক কাঠামো বিকৃত হয়, তখন গোলাপি বা লাল রঙের হীরা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের হীরা অত্যন্ত বিরল এবং বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান রত্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রকৃতির এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনের কারণেই প্রতিটি হীরা একে অপরের থেকে অনন্য হয়ে ওঠে।