বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রকাশিত লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘নেতা জনতা ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইটিতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্রের অসম্পূর্ণতা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে লেখা হলেও সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বইটির বিষয়বস্তু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হয়। লেখক এই গ্রন্থে রাজনীতির জটিল সমীকরণ, নেতাদের ভূমিকা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অমিল নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা করেছেন।
বইটিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির গুণকীর্তন না করে বরং ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের মতো নেতাদের রাজনৈতিক দর্শন ও কার্যক্রম নিয়ে এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে বইটির পাতায় পাতায়।
লেখকের মতে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুরোপুরি স্থাপিত না হওয়ার পেছনে নীতিনির্ধারকদের পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রবণতা দায়ী। বারবার সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ও প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি পায়নি বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের অবদান এবং পরবর্তী সময়ে তাদের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে লেখক কঠোর সমালোচনা করেছেন।
বইটির ৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘একুশের রাজনীতি’ প্রসঙ্গে লেখক গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ভূগোল নয়, ইতিহাসই নতুন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। সঠিক ইতিহাস জানা এবং তাকে সম্মান করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। এছাড়া জাতীয় সংকটের মুহূর্তে ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অসহায়ত্ব এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাহসিকতার কথা বইটিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
স্বরবৃত্ত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে রাজনীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। যারা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।