শায়খ আব্দুল কাইয়ূম বলেছেন, মানুষের ইমান জামাকাপড়ের মতো সময়ের সাথে পুরনো বা মলিন হয়ে যেতে পারে। ইমান পুরনো হওয়া মানে তা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং পার্থিব জগতের গাফলতিতে ডুবে থাকা। শায়খ আব্দুল কাইয়ূমের মতে, প্রমোদ-আমোদ ও অলসতার কারণে মানুষ যখন আল্লাহর ভয় এবং আখেরাতের কথা ভুলে যায়, তখন ইমান তার জীবন্ত শক্তি হারিয়ে ফেলে। তিনি ইমানকে পুনরায় সতেজ বা নবায়ন করার তাগিদ দিয়েছেন।
ইমান নবায়নের উপায় হিসেবে তিনি রুটিন মাফিক ইবাদতগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, নামাজ, জুমার নামাজ কিংবা অজুর মতো আমলগুলো কেবল দায়সারাভাবে পালন করলেই হবে না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর নেয়ামত ও মর্যাদার বিষয়টি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। নামাজে দাঁড়িয়ে কার সামনে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার আশা ও তীব্র আকুলতা থাকাই হলো ইমান তাজা থাকার মূল ভিত্তি।
সাহাবায়ে কেরামও নিজেদের ইমান বৃদ্ধির জন্য একে অপরের সাথে আলোচনা করতেন এবং সব সময় আত্মসমালোচনা করতেন। হযরত আবু দরদা (রা.)-এর অনুসরণে প্রতিটি মানুষের উচিত প্রতিদিন নিজেকে মূল্যায়ন করা যে, তার ইমান বাড়ছে নাকি কমছে। শয়তানের প্ররোচনা চিহ্নিত করে গুনাহের পথ বন্ধ করাই একজন বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ।
শায়খ আব্দুল কাইয়ূম বলেন, আখেরাতে প্রতিটি আমলের দৃশ্যমান রূপ থাকবে। যারা নিষ্ঠার সাথে জুমার দিন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত রক্ষা করবেন, হাশরের ময়দানে তারা বিশেষ মর্যাদা পাবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নামাজকে কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা রুটিন কাজ হিসেবে না দেখে, এটি হওয়া উচিত আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের মাধ্যম। একাগ্রতা ও খুশু-খুজুর সাথে প্রতিটি ইবাদত পালন করলেই ইমান পুনরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং তা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।