বাংলাদেশের রাজশাহীতে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। নদী গবেষক এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, পানির গভীরতা ও প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যা জেলেরা তাদের জীবিকার প্রধান সংকট হিসেবে দেখছেন।
ঐতিহাসিকভাবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে চারঘাট পর্যন্ত পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ও বাঘাইড়সহ বিভিন্ন মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকে নদীর নাব্য কমে চরের সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের তথ্যমতে, বাঁধের আগে পদ্মায় যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হতো, বর্তমান প্রবাহ তার চেয়ে অনেক কম। পানির গভীরতা ২০ ফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় ইলিশের উজানে আসার স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মাছ আহরণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলায় ২৮ দশমিক ৫৫ টন ইলিশ ধরা পড়লেও গত কয়েক বছরে তা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। একইভাবে দেশীয় মাছের আহরণও প্রতি বছর কমছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্মার ৭৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে বড় একটি অংশ এখন বিপন্ন বা অতি বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
নদীর মাছ কমে যাওয়ায় পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন জেলেরা। তারা জানান, আগের মতো মাছ না পাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। মৎস্য গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন, নদীর পানির প্রবাহ ও গভীরতা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে।
জেলেদের মতে, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং মাছের প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে হয়তো ভবিষ্যতে ইলিশ ও অন্যান্য মাছের বিচরণ আবারও স্বাভাবিক হতে পারে। অন্যথায়, পদ্মার জীববৈচিত্র্য ও জেলেদের জীবন-জীবিকা আরও গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।