বাংলাদেশের রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে অস্থিরতা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে পূর্বঘোষিত সব ধরনের সভা ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘর্ষের পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের তৎপরতা
রবিবার ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ফল উৎসবের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও প্রক্টর অফিস তার অনুমতি দেয়নি। তবে কর্মসূচি পালনের অনুমতি না পেলেও ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন জানান, প্রক্টরকে অপমানিত করার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন করবেন অথবা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারাও ক্যাম্পাসে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘আলফা সানডে’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকলেও তা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়। তারা দ্রুত ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে। জুলাইয়ের শুরুতে ঘটা সংঘর্ষের ঘটনার পর ৫ আগস্ট মধ্যরাতে প্রক্টর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে ছাত্রদল, জকসু এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি নিজ নিজ দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তবে নতুন করে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো ক্যাম্পাসকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।