যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস শহরের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ফুয়েল সেলের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে নতুন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক গ্যাং উ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক ন্যানোস্ট্রাকচার্ড কার্বন ডিজাইন ব্যবহার করে এই সাফল্য পেয়েছেন, যা ডেটা সেন্টারের মতো উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের ব্যাপক প্রসারের ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইলেকট্রিক পাওয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৯ শতাংশ আসতে পারে কেবল ডেটা সেন্টারগুলো থেকে। এই সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল সেল একটি টেকসই বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে, যা হাইড্রোজেনকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
সাধারণত ফুয়েল সেলে প্ল্যাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতু অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে উচ্চ তাপমাত্রায় প্ল্যাটিনাম ন্যানো পার্টিকেলগুলো অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন গবেষণায় গবেষকরা বিশেষ এক ধরণের ছিদ্রযুক্ত কার্বন কাঠামো তৈরি করেছেন, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও প্ল্যাটিনাম ও কোবাল্ট ন্যানো পার্টিকেলকে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম।
গবেষণাটিতে দেখা গেছে, এই নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি অনুঘটক ১৫০,০০০ ভোল্টেজ সাইকেলের পরও ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা ধরে রাখতে পেরেছে, যা প্রায় ২৫,০০০ ঘণ্টা ব্যবহারের সমতুল্য। এর ফলে ফুয়েল সেল থেকে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
অধ্যাপক গ্যাং উ জানান, এই উদ্ভাবন পরিবহন খাতসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পথ তৈরি করবে। গবেষণার ফলাফল নেচার ন্যানোটেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে গবেষক দলটি ব্রুকহ্যাভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নর্থ-ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করেছে।