যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যালেক্স মিলার জানিয়েছেন, ড্রোন বা স্বায়ত্তশাসিত যুদ্ধ প্রযুক্তির ওপর থেকে গুরুত্ব কমাচ্ছে না সেনাবাহিনী। একটি ড্রোন-কেন্দ্রিক ইউনিটকে পুনরায় প্রথাগত পদাতিক ব্যাটালিয়নে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
ইউরোপে মোতায়েন ১৭৩তম এয়ারবোর্ন ব্রিগেডের অধীনে থাকা ৫০৪তম প্যারাশুট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৩য় ব্যাটালিয়নকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আনম্যান্ড সিস্টেমস ব্যাটালিয়ন’ বা ড্রোন ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া যুদ্ধলব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে এই ইউনিটের মাধ্যমে আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তবে আগস্ট মাসে সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লেনেভ ইউনিটটিকে পুনরায় প্রথাগত পদাতিক ইউনিটে রূপান্তরের নির্দেশ দেন। জার্মানির হোহেনফেলস ট্রেনিং এরিয়ায় ড্রোন নিয়ে দুটি মহড়া সম্পন্ন করার পরপরই এই নির্দেশনা আসে।
সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশেষায়িত ড্রোন ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলে ইউক্রেনসহ মিত্রদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, এটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
জবাবে অ্যালেক্স মিলার বলেন, এই ইউনিটটি স্থায়ী কোনো ড্রোন কোরের অংশ ছিল না। বরং ছয়-সাত মাসের জন্য এটিকে বিশেষায়িত করা হয়েছিল যাতে সেনারা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল শিখে পুরো সেনাবাহিনীতে সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, ড্রোন প্রযুক্তিকে একটি স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং তা পুরো বাহিনীতে ছড়িয়ে দেওয়া এবং স্কেল করাই তাদের মূল লক্ষ্য।